চীনের নির্যাতিত মুসলমানেরা সহিংস জঙ্গী হয়ে উঠলে কী করার আছে? ।। মোটাদাগের কথা
চীনে কমিউনিজমের মৃত্যু হয়েছে অনেক আগেই। চীন এখন পৃথিবীর অন্যতম পুঁজিবাদি এবং সাম্রাজ্যবাদি রাষ্ট্রে পরিনত হয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে সারা পৃথিবীর যে কোন ব্যাবসায়িদের চেয়ে চীনের ব্যাবসায়িরা অসৎ। কারণ এরাই সবচেয়ে জঘন্য বাজে জিনিসপত্র বানায়। বিশেষ করে খাবার জিনিস। তারা যে সিনথেটিক সব্জি তৈরি করে বাজারজাত করছে তার ভিডিও আবার তারাই মার্কেটে ছেড়েছে। কিন্তু এসব তারা নিজেরা খায় না, ছুয়েও দেখে না।
চীনের সভ্যতা অনেক প্রাচীন। তাদের বড় বড় পাহাড়ের নিচে খ্রিস্টের জন্মেরও কয়েক হাজার বছর আগের স্থাপত্য পাওয়া গিয়েছে। সেই চীনে নানা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে দেশটি ক্রমশ বর্বর রাস্ট্রে পরিনত হয়েছে। চীনে যত রাজনৈতিক হত্যা ঘটেছে তার বেশিরভাগেই করেছে কমিউনিস্টরা। কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে মাওসেতুং হত্যা করেছে লাখ লাখ মানুষ। চীনে বেশ কিছু অদ্ভুৎ আইন কানুন আছে যা মানব সভ্যতার জন্য বিরাট হুমকি।
ধর্ম একান্তই ব্যক্তিগত চর্চার একটি বিষয়। ধর্ম পালন করা বা না করার সুফল-কুফল একমাত্র ঐ ব্যক্তিই পাবেন বলে সকল ধর্মগ্রন্থে আছে। সেখানে একটি রাষ্ট্র কী করে ঠিক করে কে কোন ধর্ম পালন করবে বা না করবে?
রোজার মাস এলেই সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর তারা তাদের পৈচাশিক আচরণ শুরু করে। মুসলমানদের তারা মানুষই মনে করে না। কোন মুসলিম নাগরিককে তারা রোজা রাখতে দেয় না, কয়েক লাখ মুসলমানদের তারা আটকে রেখে তাদের সাথে যুদ্ধবন্দির চেয়েও খারাপ আচরণ করে চলেছে দীর্ঘ দিন ধরে। কারণ কী? একটা রাষ্ট্র কি তার নাগরিকদের সাথে এমন আচরণ করার অধিকার রাখে? রোজার দিনে কোন চীনা মুসলিম রোজা রেখে অফিস করলে তাকের জোর করে ধরে বেঁধে মেরে খাওয়ানো হয়, রোজা ভাঙানো হয়, এমনকি মুসলমানদের কাছে ধর্মীয় ভাবে চরম অপবিত্র শুকরের মাংশ পর্যন্ত খেতে বাধ্য করে। কেন এমন আচরণ? এতে চীনের কী লাভ হচ্ছে? কোন মানুষ হয়ে মানুষের সাথে এমন আচরণ কীভাবে করতে পারে? অন্য ধর্ম বা মতের প্রতি শ্রদ্ধা তো দূরের কথা অপমান অপদস্থ করা কোন সভ্যতার মধ্যে পড়ে? তার মানে আমরা বলতে পারি চীন আসলে এই সভ্য জগতের কেউ না। সভ্যতার মুখোশ পরা একটি অসভ্য বর্বর দেশ এই চীন।
কিন্তু বিষয়টি এভাবেই শেষ হয়ে যায় না বা যেতে পারে না। মানুষের একটা সহ্যের সীমা থাকে। প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে এই মুসলিমদের সহিংস হওয়ার ইতিহাস অনেক পুরানো। এই সব ক্ষোভ অনেক মারাত্মক হয়। যা তীব্র ভাবে বিস্ফোরিত হয়ে অনেক মানুষের জীবন নাশ করে আমরা দেখেছি। সেটা চীনও দেখেছে। পৃথিবীর কোন সহিংসতাই আমার কাম্য নয়। কিন্তু সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া চীনা এইসকল মুসলমানেরা যদি প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে ওঠে তো চীনের কী করার থাকবে? চীনা নাগরিক সারা বিশ্ব জুড়েই বসবাস করে। তেমনি মুসলমানেরাও সারা পৃথিবীতে বাস বরে। এখন যদি কোন মুসলমান তার স্বজাতির উপর অত্যাচারে প্রতিশোধ নিতে আল্লাহুআকবর বলে চাপাতি নিয়ে কোন চীনা নাগরিকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার দায় কে নিবে?

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই যে, বিষয়টি নিয়ে কোন শক্তিশালি মুসলিম দেশ কোন কথা বলছে না। কেউ আন্তর্জাতিক ভাবে ভেটো দিচ্ছে না, জাতি সংঘ (আমি বলি জাতি সাপের সংঘ) এ নিয়ে কোন কথা বলছে না। ইরান, সৌদি, তুরস্ক সহ যত বড় বড় মুসলিম দেশ আছে সবই চুপ। কারণ তাতে তাদের বানিজ্যে সমস্যা হবে। এ পৃথিবী এখন বানিজ্য ছাড়া আর কিছু চেনে না। কে কোথায় মরলো নির্জাতিত হলো তাতে তাদের বালটাও ছেঁড়া যায় না। তাই এসব রাষ্ট্র এখন কিছু বলবে না। কিন্তু যখন এই চীনা নির্জাতিত মুসলমানেরা জঙ্গি হবার জন্য নিজেদের গোছাবে তখন ইরান, সৌদি, তুরস্ক-ই তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করবে। কারণ বানিজ্য হবে। মোদ্দা কথা পুরো বিষয়টিই বানিজ্যিক।
পৃথিবীতে এখন ১৬০ কোটি মুসলমানের বসবাস। তারা পারে না আজ থেকে সকল চায়না পন্য বর্জন করতে? পারে। চাইলেই পারে। কিন্তু তারা তা করবে না। করলে বানিজ্যে সমস্যা হবে। কী দরকার?
কিন্তু আবারও বলছি বিষয়টি এতো সরল না। এই চলমান নির্জাতনের ফলে খুব অল্পদিনের মধ্যেই চীনে জঙ্গিবাদের উত্থান হবে। তখন শুরু হবে আরেক রক্তের হলি খেলা। মানুষের তো সহ্যের একটা সীমা আছে, না কি?
কিন্তু আমরা সহিংসতা চাইনা কোন ভাবেই। চীন মুসলমানদের সাথে এমন নোংরা আচরণ বন্ধ করুক। ১৬০ কোটি মুসলমান প্রবল ভাবে চাপ সৃষ্টি করুক। বন্ধ হোক এমন পৈশাচিক নির্জাতন। বন্ধ হোক ধর্মের নামে সকল মানুষ নির্জাতন ও হত্যা।


No comments