Header Ads

CODESMITE
  • সাম্প্রতিক লেখা:

    দ্যা ডার্টি পিপল, দ্যা ডার্টি পলিটিক্স ।। মোটাদাগের কথা

    একটু দুপুর বেলা একটু ঘুমাব ভাবছি। এর মধ্যে দেখি হুমায়ুন চাচ্চুর ফোন। 
    - ব্যস্ত? একটু বাসায় আসবি?
    আমি তার কোন অনুরোধ কখনও ফেলতে পারি না। হুমায়ুন চাচ্চু আমার এক দূর সম্পর্কের চাচা। রাজনৈতিকভাবে বিএনপি করতেন। এরশাদ পতন আন্দলনের সময় সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আর সেই আন্দলনের সময় হাসিনা খালেদা দুই নেত্রীর সাথে মিলেমিসেই সে আন্দলনে সক্রিয় ছিলো। কিন্তু খুবই অদ্ভুত বিষয় এই যে, ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে চাচ্চু স্বর্ণা খালাকে বিয়ে করতে না পেরে ব্রিটেন চলে যান। 



    ২০০২ সালে মেম বউ আর এক মেয়েকে নিয়ে দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করেন। চমৎকার ব্যবসা চলছিলো। কি মনে করে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হন। চাচ্চু কখনও সহিংস রাজনীতি করতেন না। তার ব্যবসাটা এমন ছিলো সেখানে সরকারের কাছ থেকে আলাদা করে ফায়দা নিয়ে কিছু করার নেই। মেয়ে সামান্তা স্কলাস্টিকায় পড়ে। চাচ্চুরর ব্যবসা দিন দিন ফুলে ফেপেই উঠতে লাগলো। অতি উন্নত জীবন যাপনে অভ্যস্ত চাচ্চুর আয়ের সাথে ব্যায়ও ছিলো প্রচুর। উনি বিএনপি থেকে কোন ধরনের আর্থিক সুবিধা নেয়ার বদলে প্রচুর অর্থ খরচ করতেন দলীয় কাজে। সে ব্যপারে উনি কারো মতামতের ধার ধারতেন না। কিন্তু ওনার সামনে যে কত বড় ভয়ঙ্কর বিপদ উপস্থিত হতে পারে তা উনি কোন দিন কল্পনাও করতে পারেননি। 

    তার উত্তরার এক কারখানার দিকে নজর পড়লো ততকালীন লুটেরা মামুনের এক চাচাতো ভাইয়ের। আমরা একদিন শুনলাম চাচ্চুর কারখানা দখল হয়ে গেছে। চাচ্চু খালেদা পর্যন্ত গিয়েও কিছু করতে পারলেন না। তিনি মামুনের নামে আর তার চাচাতো ভাইয়ের নামে মামলা করলেন। তাতে হিতে বিপরীত হলো। বিএনপি হয়ে গেলো চাচ্চুর শত্রু। ব্যবসায় চরম ধ্বস নামলো। চাচ্চু তার গুলশানের আটকোটি টাকা দামের ফ্লাট মাত্র অড়াই কোটি টাকায় ব্যাংকে রেখে ব্যবসায় খাটালেন। ভাড়া বাসায় ওঠার কারণে মেম চাচীর সাথে প্রায়ই ঝামেলা হতো। 

    চাচার খুব খারাপ অবস্থায় দেশে ওয়ান ইলেভেন হলো। ওয়ান ইলেভেন চাচ্চুর জন্য চমৎকার কাজ করলো। তিনি ব্যাবসায় মনোনিবেশ করলেন। সুদিন ফিরলো তার। আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজনীতি ছেড়ে শুধুই ব্যবসা করা শুরু করলেন। সুদিন ফিরলো। ফ্লাট ছাড়ালেন, উত্তরার কারখানা উদ্ধার করতে পারলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে চাচার শনির দশা আবার কাঁধে উঠলো। নিয়মিত চাঁদা দিতে হতো তৃণমূল থেকে শুরু করে অতি উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত। চার মাসের মাথায় চাচ্চুর দুটি কারখানা জমি জমা তল্পি তল্পাসহ দখল করে নিলো ঢাকার এক নেতা। চাচ্চুর নামে তিনটি কেস দেয়া হলো। এই কেসের খুব বাজে প্রভাব পরলো তার পরিবারে। মেম চাচী বিষয়টি একদমই পছন্দ করতেন না। চাচ্চুও কেস করা শুরু করলেন। এ নিয়ে চাচীর সাথে তার সম্পর্ক শীতল থেকে শীতলতর হতে শুরু করলো। 

    ২০১৩ সালে তাদের মেয়ে সামান্থার জন্মদিনে ঘটলো সবচে ন্যক্কারজনক ঘটনাটি। সামান্থার জন্মদিনের দিন সন্ধ্যায় পার্টি থেকে চাচা আর চাচীকে তুলে নিয়ে গেলো সাদা পোষাকের কিছু লোক। নিয়ে গেলো স্থানীয় থানায়। চাচীকে মধ্য রাতে ছাড়লেও চাচাকে আর ছাড়া হলো না। চাচী তার জন্ম সূত্রে নাগরিক মেয়ে সামান্থাকে নিয়ে "বাংলাদেশী পিপলস আর ভেরি ডার্টি, পলিটিক্স ডার্টি" বলতে বলতে বিট্রেন চলে গেলো। চাচা ছাড়া পেলেন চার মাস তের দিন পরে। তাতে এদেশের বাঘা বাঘা ব্যারিস্টারদের ঘাম ছুটে গেলো। কিন্তু যিনি ফিরে এলেন তিনি আদতে চাচ্চু ছিলেন না ছিলো একটা কঙ্কাল যা আদতে টুকরো টুকরো, কিন্তু কিছু চামড়া দিয়ে জোড়া লাগানো আছে। কি পরিমান অত্যাচার তার উপরে করা হয়েছে জানি না তবে তিনি পোষাক পরা সিকিউরিটি গার্ড দেখলেও ভয় পেতেন। 


    চিকিৎসার জন্য তাকে ভর্তি করানো হলো পিজি হাসপাতালে। চিকিৎসার খরচ কোন ক্রমেই হাতি পোষার সাথে তুলনা করা চলে না, কারণ চাচ্চু চার হাজার টাকা দামের ইনজেকশন দিতে হতো প্রতিদিন তিনটা করে, মনে আছে এমআরআই সিটিস্কানের মতো ব্যয়বহুল টেস্ট প্রথম ছয় মাস প্রায় দুয়েকদিন অন্তর অন্তর করানো লাগতো। একেকটা এন্টিবায়োটিকেরর দাম ১৮০ টাকা পর্যন্ত দেখেছি। প্রচুর টাকা ব্যয় হতে লাগলো দুহাতে নয়, কয়েক জোড়া হাতে। তার সম্পদের অনেক কিছু বিক্রি করতে গিয়ে দেখা গেলো তার মালিকানায় রয়েছে এখন অন্য কেউ। সবচেয়ে মজার বিষয় এই চিকিৎসার মধ্যেও চাচ্চুকে রেগুলার হাজিরা দিতে যেতে হতো নানান কেসে। তখন চাচ্চুকে হেল্প করতে আসা তার চাচাতো ভাই আব্দুল হাই ধীরে ধীরে গিলে খেতে লাগলো চাচ্চুকে। এখন চাচ্চুর সম্পদ বলতে আছে শুধু কল্যাণপুরে একটা তিন রুমের ফ্লাট। যার দুই রুম সাবলেট দিয়ে নয় হাজার টাকা পায় সেটা দিয়ে তার সব কিছু চালাতে হয়। কেস এখনও চলছে। আমি এসেছি তার কাছে ফোন পেয়ে। অবস্থা বেশী খারাপ দেখলে দেয়ার জন্য কিছু টাকাও এনেছি। 


    তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সে রাজনৈতিক সহিংতা চালিয়েছে, পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ মেরেছে ইত্যাদি। পরিবার বলতে সামান্থা শুধু মাঝে মধ্যে ফোন করে। 
    আজ আমাকে আফসোস করে বললো যদি হাজার তিনেক টাকাও থাকতো তাহলে অন্তত একটা সিম্ফনির স্মার্ট ফোন কিনে মেয়েটার সাথে কথা বলতাম। আমি কিছুদিন পিছনে তাকালাম। চাচ্চুর ড্রাইভার ইকবালকেও উনি আই ফোন কিনে দিয়েছিলেন। আমি চাচ্চুর হাতে পাঁচটা একহাজার টাকা গুঁজে দিলাম। না, দান বা করুণা নয়। ওনার কাছ থেকে যা নিয়েছি তা এরকম সারা জীবন দিলেও শোধ করা সম্ভব হবে না। 
    - এইটা দিয়া একটা ফোন কিনো।
    টাকাগুলো দলা করে হাতের মধ্যে ধরে আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলেন। তিন চার দিনের না কামানো দাড়ি গালে যার দুই তৃতীয়াংশ পাকা। আমি জানি এ টাকা দিয়ে চাচ্চুর ফোন কেনা হবে না। তার সারা গায়ে ব্যথা। ব্যাথায় ঘুমাতে পারে না। এটা দিয়ে সে ফোন কিনতে পারবে না। বাস্তবতা বড়ই কঠিন। চাচ্চু এই টাকা দিয়ে আসলে অসুধ কিনতে বাধ্য হবে। আমি ফেরার সময় বললাম
    -ফোন দিও।
    -ফোন তো দিতে পারব না তুই দিস। কাল থেকে ফোন বন্ধ থাকবে। 
    - কেন? 
    - চার্জ দিতে পারব না। 
    - কেন চার্জার নাই কিনে দিয়ে যাব? 
    - না চার্জার আছে, কাল থেকে কারেন্ট থাকবে না।
    - কেন?
    - তিন মাসের বিল বাকি। কাল লাইন কেটে দেবে।



    আমি কিছু বললাম না। আমারও দুই মাসের বাসা ভাড়া বাকি। 
    গত দু'তিদন ধরে মানীয় মন্ত্রী শাহজাহান খানের ডাকা হরতালের ভয়াবহ চিত্র আমরা দেখেছি টিভিতে পত্রিকায় আবার কেউ কেউ যায়গায় থেকে। পুলিশের গাড়ী পোড়াতে দিধা করেনি মোটেই। এর জন্য কেস করা হয়েছে। তাতে আসামি করা হয়েছে ১২০০ জনকে। নাম উল্লেখ করা হয়েছে ৪৭ জনের। কিন্তু তাতে হুকুমের মালিক হিসেবে শাহজাহান খানের নাম নেই। কারণ সেখানে হয়তো নাম আছে কোন এক হুমায়ুন চাচ্চুর।


    মোটাদাগের কথা
    সকল ধরণের কপিরাইটঃ সাইফুল বাতেন টিটো


    No comments